ইরানের সঙ্গে পুনরায় শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অবতরণ করতে যাচ্ছে।
নিউ ইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। যদিও ইরান এর আগে জানিয়েছিল যে তারা পরবর্তী দফার বৈঠকে বসতে ইচ্ছুক নয়, আলোচনার প্রক্রিয়া বজায় রাখতে ওয়াশিংটন তবুও এই বিশেষ প্রতিনিধি দলটিকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে নিশ্চিত করেছেন যে এই প্রতিনিধি দলটি বর্তমানে ইসলামাবাদের পথে রয়েছে। জেডি ভ্যান্সের পাশাপাশি এই দলে রয়েছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার।
ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন যে বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে কোনো পক্ষই আলোচনা নিয়ে কোনো রকম কালক্ষেপণ করবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, আলোচনার টেবিলে বসা এখন সময়ের দাবি।
এর আগে রোববার (১৯ এপ্রিল) জেডি ভ্যান্স ২১ ঘণ্টা ইসলামাবাদে অবস্থান করেও ইরানের প্রতিনিধিদের সাথে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি। সেই সময় আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করেছিল দুই দেশ। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, ইরান তাদের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ করতে রাজি না হওয়ায় আলোচনা ভেস্তে গেছে। বিপরীতে, ইরানের দাবি ছিল যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও আন্তরিক হতে হবে।
ইরান বর্তমানে পরবর্তী বৈঠকে বসার বিষয়ে অস্বীকৃতি জানালেও মার্কিন প্রতিনিধি দলের এই সফরকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। ইসলামাবাদে এখন প্রতিনিধি দলটির পৌঁছানোর অপেক্ষায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জ্যারেড কুশনার ও জেডি ভ্যান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সরাসরি উপস্থিতি প্রমাণ করে যে ট্রাম্প প্রশাসন এই সমস্যার সমাধান করতে কতটা আগ্রহী। শেষ পর্যন্ত ইরান আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
সম্পাদক: এ.জে. নেজামউদ্দিন ।। প্রকাশক: আবুল বশর
মোবাইল: ০১৮১৫-৩৭১৩৯৬, ০ ১৮৭১-৫৭৫২৮৮, নিউজ মেইল: matamuhuribarta24@gmail.com